লেখা: সুমি আক্তার
“তুই প্রেগন্যান্ট!!
মানে কী এসবের? প্রেগন্যান্সির মানেও বুঝিস?
এই বয়সে—১৮ বছরের মেয়ের পেটে বাচ্চা!!”
কথাগুলো বলেই আরহাম মাথায় হাত দিয়ে বেডের ওপর বসে পড়ল।
আলিশা নিঃশব্দে তার পাশে এসে বসল। চোখে জল, ঠোঁট কাঁপছে—তবু মুখে কোনো কথা নেই।
এই খবরটা যেখানে অন্য সব পরিবারের জন্য খুশির, সেখানে এই দম্পতির জন্য যেন দুঃস্বপ্ন।
কারণ বয়স—
আরহাম ২০,
আলিশা মাত্র ১৮।
আর তাদের দাম্পত্য জীবন মাত্র ছয় মাসের।
✦ খান পরিবারের গল্প ✦
খান বংশে দুই ভাই—
ইজাজ খান ও তার স্ত্রী শাইনা খান।
তাদের দুই সন্তান— বড় মেয়ে নীলাশা খান, ছোট ছেলে আরহাম মেহতাব খান।
অন্যদিকে নিয়াজ খান ও তার স্ত্রী আয়শা খান।
তাদের সন্তান— বড় ছেলে আরশাদ খান, ছোট মেয়ে আলিশা খান।
এই পুরো ঘরের অভিভাবক ও সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু হলেন
দাদি মেহরোজা আক্তার—
যার কথাই এই পরিবারে শেষ কথা।
বড়রা জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশে হলেও, ছোটদের শৈশব কেটেছে ইতালির রোম শহরে।
কয়েক বছর আগে সবাই দেশে ফিরে এসেছে।
আরশাদ (২৬) ও নীলাশা (২৫) দুজনেই বিবাহিত, প্রেমের বিয়ে।
দুই বছর কেটে গেলেও তাদের ঘরে সন্তান নেই।
চিকিৎসার জন্য তারা আট মাস ধরে ইতালিতে অবস্থান করছে।
✦ আরহাম–আলিশার গল্প ✦
ছোটবেলা থেকেই আরহাম আর আলিশার সম্পর্কটা যেন সাপ–নেউলের মতো।
ঝগড়া, খুনসুটি, মান–অভিমান—
কিন্তু তবুও কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারে না।
এই সম্পর্কের মোড় বদলায় ছয় মাস আগে,
রূপনগরে এক আত্মীয়ের অনুষ্ঠানে।
সেদিন দুপুরে আলিশা কিছু মেয়ের সাথে ঘুরতে গিয়ে পুকুরে পড়ে যায়।
পাশে থাকা আরহাম ছুটে গিয়ে তাকে কোলে তুলে নেয়।
ভেজা শরীর দুজনের একে অপরের সাথে লেপ্টে যায়।
আর সেই দৃশ্যটাই আশপাশের মানুষ অন্যভাবে ব্যাখ্যা করে।
গুজব ছড়িয়ে পড়ে—
“অশ্লীল কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়েছে!”
খান পরিবার অপমান সইতে না পেরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কিন্তু দাদি মেহরোজা আক্তার দৃঢ় কণ্ঠে বলেন—
“খান বাড়ির ছেলেমেয়ের গায়ে কলঙ্কের দাগ আমি লাগতে দেব না।
আজই বিয়ে হবে।”
কারো আপত্তি টেকেনি।
বরং রাগের মধ্যে দাদি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সেই দিনই—
কারো সম্মতি ছাড়াই—
বিয়ে হয়ে যায় আরহাম আর আলিশার।
তারা কেউই রাগ করেনি।
তাদের কাছে এটা ছিল এক নতুন অ্যাডভেঞ্চার, নতুন ফ্যান্টাসি।
✦ সংসারের শুরু ✦
বিয়ের পর ঢাকা ফিরে এলেও তারা আর আগের মতো হয়নি।
আলাদা রুম না থাকলেও মাঝরাতে চুপিচুপি দেখা করত।
কথা, হাসি, কান্না—
ধীরে ধীরে তৈরি হয় গভীর টান।
এই টান থেকেই কখন যে দাম্পত্যের বাস্তবতা এসে পড়ে—
তারা নিজেরাও বুঝতে পারেনি।
সবকিছু সবার আড়ালে থাকলেও দাদির চোখ এড়ায়নি।
তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন—
“এখন থেকে এক রুমে থাকবে।”
তিন মাস ধরে তারা একসাথে।
আর ঠিক তখনই—
এই খবর।
আরহাম হঠাৎ করে বলে উঠল—
“আমি এই বাচ্চা চাই না…”
আলিশা তাকিয়ে থাকে তার মুখের দিকে—
চোখে ভয়, ভালোবাসা আর ভবিষ্যতের অজানা শূন্যতা।
চলবে…
